নানা সংকটে জর্জরিত বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতির কারণে এখানে স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রায়ই ফিরতে হচ্ছে হতাশা নিয়ে।
সরজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ধারণ ক্ষমতা ৫০ শয্যা হলেও প্রতিদিন ভর্তি থাকে একশ থেকে দেড়শ রোগী। অতিরিক্ত চাপে বেড না পেয়ে ফ্লোরেই চলছে চিকিৎসা। অনেক সময় ফ্লোরেও জায়গা মিলছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেয়ালে বড়ো বড়ো ফাটল। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই কার্যক্রম চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তীব্র জনবল সংকটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১৯৭৬ সালে নির্মিত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ভবনটি। পরে ২০১১ সালে আরও ১৯ শয্যায় উন্নতি করে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ প্রথম শ্রেণির ২৬টি পদের ১৮টি শূন্য পদ রয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির ৮১ পদের মধ্যে ৩২টি, চতুর্থ শ্রেণির ২০ পদের মধ্যে ৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে ৫ জনের, আছে মাত্র ২ জন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১১ পদের বিপরীতে নেই একজনও। নেই কোনো আবাসিক মেডিকেল অফিসার। মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথিক) পদটিতে একজন কাগজে কলমে থাকলেও তিনি প্রেষণে রয়েছেন মঠবাড়িয়া। এছাড়া মেডিকেল ফিজিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল ল্যাব টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল, ফার্মাসিস্ট, কম্পিউটার অপারেটর ও প্রধান সহকারী পদগুলোও শূন্য রয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব আসমা বেগম দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ডাক্তার দেখালেও ফিরেছেন হতাশা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার মেলা রোগ, শুনিছি একেক রোগের একেক ডাক্তার, কিন্তু এহেনে একজন ডাক্তারই সব দেখাইছে। পরে ওষুধ নিতে যেয়ে শুনি হাসপাতালের ফার্মেসিতে তেমন কোনো ওষুধ নেই। বেশিরভাগ বাইরে দিয়ে কিনতে হবে। কিনবো কীভাবে? আমার কাছে তো টাকা নাই’।









