ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিজের ফুফুর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে ছিনতাই নাটক সাজিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এক যুবক। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া ৬ লাখ টাকাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ মে) মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের সদস্যদের আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার জলিলপুর গ্রামে মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে লিটন শেখ (৪০), একই গ্রামের আইয়ুব খানের ছেলে আমিনুর রহমান খান (২৪) ও আব্দুর রহিম বিশ্বাসের ছেলে মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। আটক লিটন শেখ ভুক্তভোগী নারী সেলিনা বেগমের আপন ভাইয়ের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত শাওন বদ্দি নামে আরেক অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে মহেশপুরের দত্তনগর মোড়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে থাবা দিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার ভুক্তভোগী সেলিনা বেগম (৫০) বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতদের আসাম করা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা তুলে নিজের ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছলে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাবা দেয় ছিনতাইকারীরা। এসময় ওই নারী মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করে তারা। মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে আমিনুর রহমান নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত লিটন শেখ ও বরকত বিশ্বাসকে আটক করা হয়।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখ এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। লিটন শেখ ও শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরেক যুবক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। আমরা এরই মধ্যে তিন জনকে আটক করেছি। শাওন বদ্দি নামের যুবক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন। আটকদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।









