রবিবার | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর ১৬ বছর এতিম হয়ে ঘুরেছি, কম্প্রোমাইজ হবে না’

স্টাফ রিপোর্টার

গত ১৬ বছর এতিম হয়ে ঘুরেছি,শরীরে সেনা রক্ত বয়ে বেড়াচ্ছি। এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ হবে না। সেনাবাহিনীর যেসব কর্মকর্তারা আমার বাবাসহ ৫৭ জন অফিসারের সঙ্গে বেইমানি করেছে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। যদি এই মীরজাফরদের বিচার না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও একটা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানোর সুযোগ রয়ে যাবে— এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক বিডিআরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া।

‎‎সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাওয়া ক্লাবে বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‎‎এ সময় রাকিন আহমেদ আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রথম আমাদের দেশের মীরজাফরদের দিয়ে শুরু করতে হবে। ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ও নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে ও নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার স্বার্থে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ভারতবিরোধী কোনো সেনা-কর্মকর্তা হলে তার অবস্থা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার স্বীকার হতে হবে, এটাই মেসেজ ছিলো এই হত্যাকাণ্ডের। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে আমরা ছাড়বো না। রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করতে হবে সরকারকে। মির্জাফরদের বিচার করতে হবে।

‎‎এছাড়াও, এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করার জন্য তিনটি এলিমেন্ট কাজ করেছিল। এর মধ্যে একটি ছিলো ফরেন এলিমেন্ট যেটি ভারত কে বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বলেছে ওই সময় পিলখানায় ভারতীয় নাগরিকদের উপস্থিত ছিলো সেটার প্রমাণ তারা পেয়েছে। আরেকটা ছিল পলিটিক্যাল এলিমেন্ট সেটা হল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের লোকজন।

‎‎পাশাপাশি, সংবাদ সম্মেলনে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ কর্নেল কুদরত-এ-এলাহী রহমান শফিকের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম কমিশন আমাদের রিপোর্টের সামারাইজ ভার্সন দিবে। একটা মোটামুটি সামারাইজ ভার্সন হয়তো দেশবাসী প্রত্যাশা করছিলো কমিশনের কাছে। তবে সম্পূর্ণ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করার আগে তাদের বিচারের আওতায় নিতে আসা উচিৎ। এর আগে প্রকাশ করা হলে তারা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিটা থেকে যায়।

 

‎‎মূল সমন্বয়কারী ফজলে নূর তাপসের বিষয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে সাকিব রহমান বলেন, তাপসের বিষয়টি নতুন কিছু না, এমনকি তৎকালীন সময়ের পত্র-পত্রিকার সংবাদেও এসেছে তাপস বিভিন্ন সময়ে পিলখানার ভিতরে গিয়েছেন এবং তার বাসায় মিটিং হতো। তার যুক্ত থাকার বিষয়টি একেবারেই সারপ্রাইজিং না। উনার বিরুদ্ধ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমরা কিন্তু আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছি। তখন আমরা অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেছি। লিস্ট ধরে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই মানুষগুলো কিন্তু এখনো আছে, আমাদের আশপাশে তারা থাকে। আমাদের বাবাদের সাথে চাকরি করেছে, মেসে থেকেছে এক সঙ্গে খেয়েছে ও বিভিন্ন সময় এক সঙ্গে অপারেশন করেছে। উনারা আমাদের সামাজিক জীবনের একটা অংশ ছিলো। উনাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। না হলে যত সময় যাবে উনাদের কিন্তু আর আস্তে আস্তে পাওয়া যাবে না।

‎বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কি ধরনের নিরাপত্তা হুমকি আপনারা পেয়েছেন বা শহীদ পরিবারের সদস্যরা পেয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সব সময় একটা সিকিউরিটি থ্রেট এসেছে। যাদের নাম এখনো আসেনি ভবিষ্যতে যদি আসে সেখান থেকেও আমাদের একটা হুমকি আছে তাদের নাম আসার পর।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক

মোঃ ইউনুছ আলী

স্বত্ব © ২০২৫ মাতৃভূমির দৈনিক চিত্র

অনুসরণ করুন

যোগাযোগ : ৭১, পুস্প প্লাজা (চতুর্থ তলা), কারওয়ান বাজার, ঢাকা – ১২১৫।
ফোন : +৮৮ ০১৯২৯-৩৬৫২২৯। মেইল : dailychitro123@gmail.com

Design & Developed by : Rose IT BD